যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এবং ওয়েলসের নিউপোর্ট শহরে পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম আসিফ শামসের নিজ নামে এবং তাঁর একক মালিকানাধীন কোম্পানির নামে চারটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর পুত্র।

প্রথম আলো অনুসন্ধান করে দেখেছে, পূর্ব লন্ডনের কুইনম্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মাগেলান হাউসে একটি ফ্ল্যাট ও ওয়েলসের নিউপোর্ট শহরের সাউথ মার্কেট স্ট্রিটে দুটি এবং পটার স্ট্রিটে একটিসহ মোট চারটি বাড়ির মালিকানায় আসিফ শামসের নাম রয়েছে।যুক্তরাজ্যের ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী দেখা যায়, আসিফ শামস মাগেলান হাউসের দুই কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটটি ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড দিয়ে নিজ নামে কিনেছেন। তবে নিউপোর্টের পর্টার স্ট্রিটের চার কক্ষবিশিষ্ট বাড়িটি ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৭১ হাজার পাউন্ড, সাউথ মার্কেট স্ট্রিটের প্রথম বাড়িটি ২০১৮ সালের ৮ জুন ৯৫ হাজার পাউন্ড এবং সাউথ মার্কেট স্ট্রিটের দ্বিতীয় বাড়িটি ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি ১ লাখ ২২ হাজার পাউন্ড দিয়ে হোমওয়ার্ড প্রোপার্টি লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির নামে কেনেন।
যুক্তরাজ্যের বাড়ি কেনাবেচার অনলাইন প্রতিষ্ঠান জুপলার তথ্যমতে, এই বাড়িগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ৮ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ কোটি ৬২ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি।যুক্তরাজ্যের সরকারি প্রতিষ্ঠান কোম্পানি হাউস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, হোমওয়ার্ড প্রোপার্টি লিমিটেডের একক পরিচালক এস এম আসিফ শামস। তবে কোম্পানিটির সেক্রেটারি পদ থেকে তাঁরই স্ত্রী, যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মুসলিমা খাতুন চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন। কোম্পানিটি ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানি হাউসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
কোম্পানি হাউসে আসিফ শামসের নামে আসনা এন্টারপ্রাইজ ইউকে লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানি নিবন্ধিত আছে। এই কোম্পানিটি ২০১০ সালের ২ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়।
এ ছাড়া ইতিপূর্বে আসিফ শামস হলিডে অ্যাপার্টমেন্ট লন্ডন লিমিটেড, মেমেন্টস ইভেন্টস লিমিটেড, মাসালা ডেক লিমিটেড, ইম্পিরিয়াল ইভেন্টস (ইউকে) লিমিটেড নামের আরও চারটি কোম্পানির পরিচালক পদে ছিলেন। তবে এসব কোম্পানি এখন বিলুপ্ত।
এস এম আসিফ শামস ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর পাবনা জেলার বেড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পদ ও ব্যবসার তথ্য গোপন করেছেন।