
নিজস্ব প্রতিবেদক, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানি। আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেওয়া এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৯ বছর পর আপিল বিভাগে এই চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর (রবিবার) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, “সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করা আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানির তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত তারিখেই আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হবে।” আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় দণ্ডিত বিভিন্ন আসামির দায়ের করা আপিলের সংখ্যা ২১টি। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের করা আরও ১৬টি ক্রিমিনাল পিটিশন রয়েছে। শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি ও আইনি গবেষণার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নৃশংস সেই ঘটনা ও মামলার প্রেক্ষাপট:২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনাটি সশরীরে দেখে ফেলায় একই রাস্তায় অপহরণের শিকার হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এর তিন দিন পর, ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ৬ জনের এবং পরদিন ১ মে আরও একজনের পেট কাটা ও ইটের বস্তা বাঁধা লাশ ভেসে ওঠে। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেওয়া এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। পূর্ববর্তী আদালতের রায়:২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ও স্থানীয় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট চূড়ান্ত শুনানিতে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই পরবর্তীতে আপিল করেন নূর হোসেন ও সাবেক র্যাব কর্মকর্তাসহ আসামিরা, যা এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।