
নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)১৯ অক্টোবর ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে ও অতিথি তালিকায় নাম এরাখা না-রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রিপন মিয়া (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নিহত রিপন মিয়া পাইস্কা এলাকার মৃত শহীদুল্লাহর ছেলে। তিনি ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মী এবং পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর পাইস্কা এলাকায় স্থানীয় যুবক শাওন মিয়া ও শাহিন মিয়ার উদ্যোগে একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে যুবদল নেতা রিপন মিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এই কমিটিতে নাম না থাকায় স্থানীয় রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীসহ তাদের পক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। এই নাম দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা ও বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সন্ধ্যায় রিপন মিয়ার সঙ্গে রিফাত কাজীর এই বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিপন মিয়া পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় অবস্থান করার সময় রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা রিপন মিয়াকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। অভিযুক্তদের মধ্যে কাজী তানভীর, রিফাত কাজী, সারোয়ার খান, কাজী আমিরুল, কাজী কামরুল, কাজী কবির ও তৌহিদ ফরহাদসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।