
বিশেষ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শহর বি এন পি ‘র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেছেন দীর্ঘ ১৭ পর দল ক্ষমতায় এসে বিগত ৬ মাসের মধ্যে যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তাদের ব্যাপারে কেন্দ্র খুব ভালো করেই জানেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের কতিপয় নেতাদের পেশিশক্তি প্রদর্শন বর্তমান জীবন প্রণালী প্রত্যক্ষ করে সাধারণ জনতা অতিষ্ঠ। তারা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন বিধায় তাদের কারণে দলের ক্ষতি হচ্ছে। ত্যাগী নেতারা তাদের কাছে অবমূল্যায়িত। এমনও সময় আসতে পারে এই সমস্ত নেতার পদ পদবি চলে গেলে দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালাতে হবে। সাংবাদিকদের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ, আদালত পৃথকীকরণ, সিনিয়র আইনজীবী ও নারী শিশু আদালতের স্পেশাল পি পি এডভোকেট খোরশেদ মোল্লা কে সরিয়ে আওয়ামীলীগ শাসনামলের প্রয়াত পি পি এডভোকেট সুলতানুজ্জামানের এক সময়ের মুহুরি এবং মাত্র দুই বছর আগের সনদ প্রাপ্ত এডভোকেট সুমন কে স্পেশাল পি পি বানানোর পায়তারার প্রতিবাদে বেশকিছু দিন যাবৎ সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমিতির সাবেক সভাপতি ও নাসিকের বর্তমান প্রশাসক এডভোকেট সাখাওত হোসেন খান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সহ তাদের বলয়ের আইনজীবীদের সাথে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (৬) অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ সংলগ্ন ডাইনিং রুমে আইনজীবীরা খাওয়া দাওয়া করছিলেন। এমন সময়ে এডভোকেট সাখাওত হোসেন খান তার বডিগার্ড সহ তার সঙ্গীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পি পি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং বিষয় টি এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়, যা সারা দেশে ভাইরাল হয়ে পরে মূহুর্তের মধ্যে। এক পর্যায়ে সাখাওয়াতের ডাকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু সহ শতাধিক পেশিশক্তিধর ও প্রশাসনের লোকজন এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রশাসক কে বের করে নিয়ে যায়। উল্লেখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু পত্র পত্রিকা, সোশাল মিডিয়ায় এডভোকেট আনোয়ার সহ বর্তমান কমিটির অন্যান্যদের ইঙ্গিত করে বিভিন্ন বক্তব্য দেন ও তাদের কে ক্ষমা চাইতে বলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার (৮) অক্টোবর সকালে টিপু দলীয় নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ সহ বিভিন্ন কারণে তাকে শহর বি এন পি’র সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং আনোয়ারের ব্যাক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে। যার লিখিত কোন কপি তার হাতে না দিয়ে বলে অভিযোগ করেন আনোয়ার। অপরদিকে আনোয়ারের অভিযোগ এ ঘটনা টি কোন সাংগঠনিক বিষয় নয়। ঘটনা টি আইনজীবীদের মধ্যে একটি ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা। এতে আমাকে দলীয় ভাবে কারন দর্শানোর নোটিশ পাঠানো টা নিয়মবহির্ভূত এবং সে যে ভাবে নোটিশ দিয়েছেন তিনি ও সেভাবে একই পন্থায় নোটিশের জবাব দিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।